দুঃস্থ পড়ুয়াদের পাশে পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশনের প্রাক্তনীরা


বর্তমান, শুক্রবার ১৪ অক্টোবর ২০১৬, ২৮ আশ্বিন ১৪২৩ - নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মাঝে মাঝে মিলিত হয়ে শুধু নিজেদের পুরানো স্মৃতি রোমন্থন করা বা সম্পর্ক ঝালিয়ে নেওয়া নয়। পিছিয়ে পড়া দুঃস্থ গ্রামীণ পরিবারের শিশুদের পড়াশুনায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে সংগঠন তৈরি করেছেন পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশন স্কুলের প্রাক্তনীরা। ১৯৮৫ সালে এই স্কুল থেকে পাশ করা ছাত্ররা কয়েক যুগ পর একজোট হয়েছেন এই উদ্দেশ্যে। পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত গ্রাম পুঞ্চায় একটি স্কুলের শিশু পড়ুয়াদের দু’বেলা খাবারের ব্যবস্থা করেছেন প্রাক্তনীরা। পিছিয়ে পড়া শবর পরিবারের ছাত্র-ছাত্রীরা পুঞ্চা নবদিশা মডেল স্কুলে নিখরচায় পড়াশুনা করে। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেনা ও নিজস্ব সঞ্চয়ের অর্থে এই স্কুলটি চালান কলকাতা পুলিশের এক কর্মী। তিনিই এই স্কুলটি তৈরি করেছেন। পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশনের প্রাক্তন ছাত্রদের সংগঠনের সম্পাদক দেবাশিস ঘোষ জানিয়েছেন, খাবারের ব্যবস্থা না করলে দুঃস্থ শবর পরিবারের শিশুদের স্কুলে ধরে রাখা সম্ভব নয়।

কলকাতা পুলিশের কর্মী অরূপকুমার মুখোপাধ্যায় নিজস্ব উদ্যোগে এই স্কুলটি চালান। তাঁর পাশে দাঁড়াতে ৪৭ জন পড়ুয়ার খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুরুলিয়ার বড়তারাতে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা পরিচালিত একটি স্কুলের পাশেও দাঁড়িয়েছেন প্রাক্তনীরা। স্কুলের বিদ্যুতের খরচ কমাতে সেখানে সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া পড়াশুনার কিছু উপকরণও দেওয়া হয়েছে। পুরুলিয়ার গরিব পরিবারের স্কুল পড়ুয়াদের জন্য নিয়মিত পোশাক পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্কুল থেকে পাশ করে বেরিয়ে যাওয়ার পর এই প্রাক্তনীরা দেশ ও বিদেশের নানা জায়গায় বিভিন্ন পেশায় জড়িত। কেউ আছেন সরকারি দপ্তরের উচ্চপদে, কেউবা কাজ করেন রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি সংস্থার দায়িত্বশীল পদে। কয়েক বছর আগে সোশ্যাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপিত হয়। তারপরই পুরুলিয়ার দুঃস্থ ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে দাঁড়াতে একটি সংগঠন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। ১৯৮৫-এর ব্যাচের ৩৭ জন এখন এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। তাঁরা নিজেদের অর্থ দিয়ে দুঃস্থ ছাত্র-ছাত্রীদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে দেবাশিসবাবু জানিয়েছেন। আগামী দিনে সংগঠনের কাজ আরও ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা আছে তাঁদের।